Header Ads

Header ADS

মুখের সাধারণ ঘা হতে পারে ক্যান্সারের উপসর্গ! তাই সাবধান!

বহু মানুষ হামেশাই মুখের ঘায়ের সমস্যায় ভোগেন। তবে বেশিরভাগ মানুষই এই সমস্যাকে তেমন আমল দেন না। অবশ্য এই ধরনের ঘা হতে পারে ক্যান্সারের কারণও। তাই সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মুখের ক্যান্সারের প্রধান লক্ষণ হল মুখের আলসার বা ঘা।

বেশিরভাগ সময়ই মুখের ঘা খুব জটিল দিকে যায় না।

প্রাথমিকভাবে মুখের ভিতরটা দেখেই বোঝা যায়।

এই সময় জীবনযাপন ডেস্ক: মুখের ঘায়ের সমস্যায় আম বাঙালি একেবারে অভ্যস্ত। ছোটবেলা থেকেই প্রচুর মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে থাকেন। একবার শুরু হলে সেই সমস্যা চলতেই থাকে। জায়গাটা লাল হয়, ফুলে ওঠে, থাকে ব্যথাও। খেতে, কিছু গিলতেও সমস্যা হয়।

মুখের ঘায়ের সমস্যাকে বেশিরভাগ মানুষ পাত্তা না দিলেও এই অসুখটিও খুব সমস্যায় ফেলতে পারে। কারণ কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্যার নেপথ্যে থাকতে পারে ক্যান্সারের ভ্রুকুটি। তাই সবাধান।

এই প্রসঙ্গে কলকাতার চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের মেডিক্যাল অঙ্কোলজির চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডা: পার্থ নাথ বলেন, ভারত সহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মানুষের মধ্যে সবথেকে বেশি হয় মুখের ক্যান্সার। মুখের ক্যান্সারের প্রধান লক্ষণ হল মুখের আলসার বা ঘা।

মুখের ঘা ও ক্যান্সার

ডা: পার্থ নাথ বলেন, আমরা বেশিরভাগ মানুষই মনে করি মুখের ঘা বিষয়টি খুবই সাধারণ। এF ভাবনায় তেমন ভুল নেই। বেশিরভাগ সময়ই মুখের ঘা খুব জটিল দিকে যায় না। সাধারণত পেটের অসুখ, ভিটামিনের অভাব ইত্যাদি কারণেই এই সমস্যা হয়। তবে বেশকিছু সময় এই সমস্যা থেকে হতে পারে ক্যান্সার। এক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলি দেখলে সচেতন থাকুন-

মুখের ঘা অনেকদিন ধরে সারছে না। সমস্যা প্রায় ৬ মাস থেকে ১ বছর রয়ে গিয়েছে। তারপরও ঘা সারছে না।

ডাক্তারবাবুকে দেখিয়ে, ওষুধ খেয়ে সামান্য কমলেও ফের ঘা হচ্ছে।

মাঝেমাঝেই ঘা থেকে রক্তপাত হয়।

ঘা বাড়ছে।

খুব ব্যথা হয়।

ঘায়ের সীমানা স্বাভাবিক নয়।

কেন হয়?

মুখের এই ধরনের সমস্যার নেপথ্যে বেশিরভাগ সময়ই থাকে জর্দা, পানমশালা, পান, সুপারি ইত্যাদি তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবন। এছাড়া অনেকের দাঁতের মাথাটা ভেঙে গিয়ে সুচালো হয়ে যায়। সেই দাঁতের সুচালো অংশটি বারবার গালে লেগে ঘা তৈরি হয়। এবার দীর্ঘদিন এই ধরনের ঘায়ের চিকিৎসা না হলে দেখা দিতে পারে ক্যান্সার।

রোগ নির্ণয়

ডা: পার্থ নাথ জানালেন, প্রাথমিকভাবে মুখের ভিতরটা দেখেই বোঝা যায়। পাশাপাশি রোগী নিজের সমস্যার কথাও বলতে থাকেন। এরপর সন্দেহ মনে হলে, চিকিৎসক স্ক্র্যাপ সাইটোলজি টেস্ট করেন। এক্ষেত্রে ঘা থেকে থেকে কিছুটা কোষ বের করে আনা হয়। তারপর সেই কোষগুলিকে মাইক্রোস্কোপের তলায় এনে দেখা হয় কোনও ক্যান্সার কোষ রয়েছে কি না। এরপর ক্যান্সার নিশ্চিত হতে করা হয় বায়োপসি। ক্যান্সার কোন পর্যায়ে রয়েছে, কোথায় কোথায় ছড়িয়েছে জানতে করা হয় সিটি স্ক্যান।

চিকিৎসা

রোগ প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়লে করা হয় সার্জারি। এরপর প্রয়োজন মতো দেওয়া হয় রেডিয়েশন থেরাপি। কেমো থেরাপির এখানে তেমন কোনও ভূমিকা নেই।অপরদিকে এমন অনেক সময়ই দেখা যায় যে, রোগ অনেকটা দূর এগিয়ে যাওয়ায় সার্জারি করা সম্ভব হচ্ছে না। তখন রোগের চিকিৎসায় রেডিয়েশনই হাতিয়ার।

সচেতনতা

এই রোগ প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসা করা অনেকটাই সহজ হয়। তবে রোগ বেশিদূর এগিয়ে গেলে চিকিৎসা বেশ কঠিন। তবে সবথেকে বড় কথা, এই রোগ থেকে বাঁচতে গেল বন্ধ করতে হবে তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবন। তবেই এই রোগ এড়ানো সম্ভব।

কোন মন্তব্য নেই

Xaviarnau থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.